মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ কয়েকটি ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বুধবার (২৫ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি; সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে আরাগচি বলেন, ‘এই ছয় দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো সব সময়, এমনকি যুদ্ধের পরও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা প্যাসেজ পাবে।’
ইরানি এই মন্ত্রী জানান, হরমুজে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইতোমধ্যে অনেক রাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ‘তাদের মধ্যে অনেক দেশকে আমরা মিত্র বলে বিবেচনা করি। এই ছয় দেশের সরকারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতে সম্মতিও জানিয়েছে।’
তবে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জন্য পথ খোলা রাখলেও শত্রু রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে ইরান তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, যেসব দেশকে ইরান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে বা যারা চলমান এই যুদ্ধে সরাসরি জড়িত, তাদের কোনো জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে না।
তাঁর মতে, যেহেতু পুরো অঞ্চলটি এখন একটি যুদ্ধক্ষেত্র, তাই শত্রুপক্ষ ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের কোনো সুযোগ নেই। ইরান বর্তমানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই জলপথের ওপর নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত তেহরানের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে।
শিপিং তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘লয়েডস লিস্ট’ এবং বিশ্লেষণ সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ যাতায়াত করলেও চলতি মাসে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে।
এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ যা পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাব এবং ইসরায়েলি হামলার মুখে ইরান এই জলপথকে তাদের প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ইরানের এই বিশেষ ছাড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের এক-পঞ্চমাংশ পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করেছে ইরান। এতে জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।











